| অসমীয়া | ||
|---|---|---|
| যেসব রাষ্ট্রে প্রচলিত: | ভারত, বাংলাদেশ, ভূটান এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (ডেলাওয়্যার, নিউ জার্সি, ও নিউ ইয়র্ক অঙ্গরাজ্য) | |
| অঞ্চল: | অসম | |
| মোট ভাষাভাষী সংখ্যা: | ১ কোটি ৩০ লক্ষ (১৯৯১)[১] | |
| ক্রম: | ৫২ | |
| ভাষা পরিবার: | ইন্দো-ইউরোপীয় ইন্দো-ইরানীয় ইন্দো-আর্য পূর্ব দল বাংলা-অসমীয়া অসমীয়া |
|
| লিপি: | অসমীয়া লিপি | |
| প্রাতিষ্ঠানিক মর্যাদা | ||
| যেসব দেশের রাষ্ট্রভাষা: | ||
| নিয়ন্ত্রক সংস্থা: | নেই | |
| ভাষা কোডসমূহ | ||
| ISO 639-1: | as | |
| ISO 639-2: | asm | |
| ISO 639-3: | asmটেমপ্লেট:তথ্যছক-ভাষা/Indic | |
অসমীয়া ভাষা (অসমীয়া উচ্চারণে অখ়মীয়া), অহমীয়া ভাষা, বা আসামী ভাষা ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষাপরিবারের ইন্দো-আর্য শাখার সবচেয়ে পূর্বাঞ্চলীয় ভাষা। অসমীয়া প্রায় দেড় কোটি মানুষের মাতৃভাষা। এদের অধিকাংশই ভারতের অসম রাজ্যে বাস করেন। এছাড়াও ভারতের অঙ্গরাজ্য পশ্চিমবঙ্গ, মেঘালয় ও অরুণাচল প্রদেশ এবং সার্বভৌম রাষ্ট্র ভুটান এবং বাংলাদেশেও অসমীয়া প্রচলিত। পূর্ব ভারতীয় মাগধী প্রাকৃত থেকে অসমীয়া ভাষার উৎপত্তি হয়েছে বলে ধারণা করা হয়। ১৮২৬ সালে অসম ব্রিটিশ শাসনের অধীনে আসে এবং বাংলা ভাষাকে অসমের রাষ্ট্রভাষা করা হয়। এর প্রায় ৫০ বছর পরে ১৮৭০-এর দশকে অসমীয়া ভাষা রাজ্যটির সরকারী ভাষা হিসেবে ফিরে আসে। বর্তমানে অসমীয়া ভারতের অসম রাজ্যের সরকারী ভাষা এবং রাজ্যের সমস্ত কর্মকাণ্ডে এটি ব্যবহৃত হয়।
সূচিপত্র |
অসমীয়া ভাষা বাংলা লিপির একটি সামান্য পরিবর্তিত সংস্করণে লেখা হয়। লিপিটির নাম অসমীয়া লিপি। বাংলা লিপির মতই এতে ১১টি স্বরবর্ণ আছে, তবে ব্যঞ্জনবর্ণ ও অন্যান্য চিহ্ন আছে ৫৪টি। গুপ্ত লিপি থেকে বিবর্তিত পূর্ব নাগরি লিপি থেকে লিপিটির উৎপত্তি। অসমে প্রাচীনকাল থেকেই লেখালেখির চর্চা আছে। মধ্যযুগে এখানকার রাজাদের আদেশনামা, ভূমি প্রদানপত্র, এবং তাম্রফলকে অসমীয়া লেখা দেখতে পাওয়া যায়। পূর্বে সাঁচি গাছের বাকলে অসমের একটি নিজস্ব লিপিতে ধর্মীয় গ্রন্থ ও কাহিনী লিখিত হত। হেমকোষ নামের অভিধানে অসমীয়া শব্দের যে সংস্কৃতভিত্তিক বানান ব্যবহৃত হয়েছিল, সেগুলিই এখন প্রমিত বানানে পরিণত হয়েছে।
অসমীয়া ব্যাকরণের সাথে অন্যান্য ইন্দো-আর্য ভাষাগুলির ব্যাকরণের প্রচুর মিল আছে। এগুলির মত অসমীয়া ভাষাও সংশ্লেষণাত্মক ভাষা, অর্থাৎ ধাতুর সাথে অন্ত্যপ্রত্যয় জোড়া লাগিয়ে শব্দ তৈরি করা হয় এবং বিভক্তির মাধ্যমে ব্যাকরণিক সম্পর্ক নির্দেশ করা হয়।
অসমীয়া বিশেষ্যগুলি নিচের ব্যাকরণিক ক্যাটেগরিগুলির জন্য চিহ্নধারণ করে:
ক্রিয়াগুলি কর্তৃবাচ্যে কর্তার সাথে এবং কর্মবাচ্যে কর্মের সাথে বচন, পুরুষ ও লিঙ্গে সাযুজ্য রক্ষা করে। ক্রিয়াগুলির নিম্নলিখিত ব্যাকরণিক ক্যাটেগরি বিদ্যমান:
অসমীয়া ভাষার স্বাভাবিক পদক্রম হল কর্তা-কর্ম-ক্রিয়া। বিশেষক পদগুলি বিশেষ্যের আগে বসে। গৌণ কর্ম প্রত্যক্ষ কর্মের আগে বসে।
অসমীয়ার চারটি প্রধান উপভাষা রয়েছে[২]। নিচে অসমীয়ার উপভাষাগুলির একটি তালিকা দেয়া হল:
এছাড়াও অসমে নাগা পিজিন নামের একটি অসমীয়া-ভিত্তিক একটি ক্রেওল ভাষা প্রচলিত।
অসমীয়া ভাষার মান্য বা প্রমিত রূপ কেন্দ্রীয় উপভাষাটির উপর ভিত্তি করে নির্মিত। ১৯শ শতকের মাঝামাঝি সময়ে ব্রিটিশ আমলে শিবসাগরে প্রচলিত উপভাষাটিকে সরকারী ভাষা করা হয়। এই উপভাষাটিই এখানকার খ্রিস্টান মিশনারিরা ব্যবহার করতেন। বর্তমানে আসামের মধ্যভাগে গৌহাটি ও তার আশেপাশের এলাকায় প্রচলিত কেন্দ্রীয় উপভাষাটিই মান্য রূপ হিসেবে স্বীকৃত। অসমের স্কুলগুলিতে ও সংবাদপত্রে যে ভাষা ব্যবহার করা হয়, তাতে অসমীয়ার বিভিন্ন উপভাষার প্রভাব রয়েছে।
অসমীয়া ভাষার ভাষাতত্ত্বের উপর প্রকাশনার সংখ্যা বেশি নয়। তবে আধুনিক ভারতীয় ভাষাগুলির উপর বৈজ্ঞানিক গবেষণার প্রাথমিক প্রচেষ্টাগুলির অনেকগুলিই অসমীয়া ভাষার উপর সম্পাদিত হয়েছিল। ১৯২০ সালে প্রকাশিত ফরাসি ভাষাবিজ্ঞানী জুল ব্লখের লা ফর্মাসিওঁ দ্য লা লং মারাথ ছিল কোন আধুনিক ইন্দো-আর্য ভাষার উপর সম্পাদিত প্রথম পূর্ণাঙ্গ ভাষাবৈজ্ঞানিক গ্রন্থ। এর কিছু পরেই ১৯২৬ সালে ভাষাচার্য সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় প্রকাশ করেন বাংলা ভাষার উপর তাঁর মহাগ্রন্থ দি অরিজিন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অভ দ্য বেঙ্গলি ল্যাঙ্গুয়েজ। এরই ধারাবাহিকতায় ৩য় রচনা হিসেবে ১৯৩৫ সালে সুনীতিকুমারেরই নির্দেশনায় বাণীকান্ত কাকতি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে Assamese, Its Formation and Development নামের পিএইচডি অভিসন্দর্ভটি প্রকাশ করেন।
অসমীয়া ভাষাকে অতীতে বাংলা ভাষার একটি উপভাষা হিসেবে ভুল করা হয়েছিল। এই ভুলের প্রেক্ষিতে ১৮৩৬ সালে ব্রিটিশ সরকার অসমের স্কুল ও আদালতে বাংলা ভাষা প্রতিষ্ঠা করেন এবং অসমীয়া ভাষার ব্যবহার নিষিদ্ধ করেন। অসমবাসীর আন্দোলনের পর ১৮৮২ সালে অসমীয়াকে পুনরায় অঞ্চলটির সরকারী ভাষা করা হয়।
প্রথম যে ভাষাবিদ অসমীয়াকে বাংলা অপেক্ষা একটি স্বতন্ত্র ভাষা হিসেবে গণ্য করেছিলেন, তিনি ছিলেন সম্ভবত নেথান ব্রাউন। ১৮৪৬ সালে প্রকাশিত Grammatical Notes on the Assamese Language গ্রন্থের ভূমিকায় তিনি এ ব্যাপারে লেখেন।
|
||||||||
stock | retire | vm
Why are we here?
All text is available under the terms of the GNU Free Documentation License
This page is cache of Wikipedia. History